মৃত্যুর পর আগত অবস্থার উপর ঈমানঃ হাদিস-১২৮

18 06 2010

হযরত খলেদ ইবনে উ’মায়র আ’দভী রদিয়াল্লহু আ’নহু (خالد بْن عميْرٍ الْعدوِىّ رضى الله عنْه) বর্ণনা করেন যে, হযরত উ’তবা ইবনে গযওয়ান রদিয়াল্লহু আ’নহু (عتْبة بْن غزْوان رضى الله عنْه) (যিনি বসরার গভর্ণর ছিলেন) আমাদের উদ্দেশ্য বয়ান করিলেন, হা’মদ সানা পাঠ করার পর বলিলেন, নিঃসন্দেহে দুনিয়া নিজের খতম হওয়ার ঘোষণা করিয়া দিয়াছে এবং পিঠ ফিরাইয়া দ্রুত চলিয়া যাইতেছে। আর দুনিয়া হইতে সামান্যতম অংশ অবশিষ্ট রহিয়া গিয়াছে। যেমন বর্তনের মধ্যে সামান্য কিছু পানীয় বস্তু অবশিষ্ট থাকিয়া যায় এবং মানুষ তাহা চুষিয়া লয়।  তোমরা দুনিয়া হইতে স্থানান্তরিত হইয়া এমন ঘরের দিকে যাইবে যাহা কখনও শেষ হইবে না। অতএব সর্বোত্তম বস্তু (নেক আ’মালসমূহ) যাহা তোমাদের নিকট রহিয়াছে তাহা সঙ্গে করিয়া ঐ ঘরের দিকে যাও। আমাদিগকে বলা হইয়াছে যে, জাহান্নামের কিনারা হইতে একটি পাথর নিক্ষেপ করা হইবে যাহা সত্তর বছর পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে পড়িতে থাকিবে কিন্তু তাহা সত্ত্বেও তলদেশ পর্যন্ত পৌঁছিতে পারিবে না।

আল্লহ তায়া’লার কসম এই জাহান্নামও একদিন মানুষ দ্বারা পরিপূর্ণ হইয়া যাইবে। তোমরা কি ইহাতে আশ্চর্যবোধ বোধ করিতেছ? আর আমাদেরকে ইহাও বলা হইয়াছে যে, জান্নাতের দরজার দুই কপাটের মাঝখানে চল্লিশ বৎসরের দুরত্ব হইবে। কিন্তু একদিন এমন হইবে যে, জান্নাতিদের ভিড়ের কারণে এত প্রশস্ত দরজাও ভরিয়া যাইবে। আমি সেই যুগও দেখিয়াছি যেদিন আমরা রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সহিত সাতজন ছিলাম, আমিও তাহাদের মধ্যে শামিল ছিলাম, শুধু গাছের পাতাই আমাদের খাদ্য ছিল। অনবরত উহা খাওয়ার কারণে আমাদের মাড়ীগুলি ক্ষত হইয়া গিয়াছিল। আমি একটি চাদর পাইলাম উহকে দুই টুকরা করিয়া অর্ধেক দ্বারা লুঙ্গি বানাইলাম বাকি অর্ধেক দ্বারা সা’দ ইবনে মালেক (রদিয়াল্লহু আ’নহু) লুঙ্গি বানাইয়া লইল। আজ আমাদের মধ্যে প্রত্যেকে কোন না কোন শহরের গভর্ণর হইয়াছে। আমি আমার দৃষ্টিতে বড় হই আর আল্লহ তায়া’লার দৃষ্টিতে ছোট হই–ইহা হইতে আমি আল্লহ তায়া’লার নিকটে পানাহ চাহিতেছি। সর্বকালে এই নিয়ম চলিয়া আসিয়াছে যে, নবুওতী তরীকা কিছু দিন চলিয়া শেষ হইয়া যায় আর বাদশাহী উহার স্থান দখল করিয়া লয়। আমাদের পর তোমরা অপর গভর্ণরদের অভিজ্ঞতা অর্জন করিবে। (মুসলিম)

ফায়দাঃ নবুওতী তরীকার বৈশিষ্ট্যসমুহের মধ্যে একটি এই যে, উহার মধ্যে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম হয়, দুনিয়ার প্রতি অনাগ্রহ ও আখেরাতের আগ্রহ নসীব হয়। (তাকমিলাহ ফাতহুল মুলহম)

মুন্তাখাব হাদিস (দারুল কিতাব, জানুয়ারী ২০০২) পৃষ্ঠা ১১০-১১১


পদক্ষেপ

Information

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s




%d bloggers like this: